শুক্রবার, ১৫ মে, ২০১৫

বাবার বৃদ্ধাশ্রম

-বাবা কয়েকটা মাস একটু কষ্ট করতে পারবে না ?
-তোকে বড় করার জন্য সারাজীবনই তো কষ্ট করলাম, কি করতে হবে সেটা বলে ফেল...

-সামনের মাসে এই ফ্ল্যাটটা ছেড়ে দিতে হবে। গুলশানের দিকে একটা ফ্ল্যাট পেয়েছি কিন্তু সেটা অনেক ছোটো মাত্র তিন রুমের।
-বাহ ভালো হবে তো। এবার আরামসে থাকা যাবে...

-বাবা মাত্র তিন রুমের ফ্ল্যাট। একরুমে আমি আর ও থাকবো আরেকটায় রুমী আর অন্যটা গেস্টরুম... তোমার জন্য রুম ম্যানেজ করতে পারিনি
-ওহ আমি নাহয় গেস্টরুমেই শুয়ে নেবো আর গেস্ট আসলে দাদুভাইয়ের সা...

-কি যে বলো বাবা!! তারচেয়ে আমি বলি কি এই একটা মাস তুমি একটু কষ্ট করো না! অবশ্য কষ্টও হবে না তোমাকে।
-কি বলছিস কিছুই তো বুঝতে পারছি না!

-বাবা উত্তরায় একটা যে নতুন বৃদ্ধাশ্রমটা সেখানে এই একটা মাস কাটিয়ে এসো। রাজার হালে থাকবে। শুধু একটু দূরত্ব এই যা।
-ও!

-তারপরের মাসেই দেখো আরেকটা বাসা নিয়ে নেবো বড় দেখে। তোমার জন্য আলাদা রুম থাকবে।
-না না সেটা কোনো ব্যাপার না।

-তাহলে বাবা এই মাসটা একটু স্যাক্রিফাইস করো না !
-অঁ হ্যাঁ হ্যাঁ কোনো সমস্যা নেই। কবে নিয়ে যাবি বল আমি ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে রাখি গে!

-আজকে বিকেলেই .. চিন্তা করো না আমি দুদিন পর পরই তোমার ব্যাগপত্র সব দিয়ে আসবো। তোমার বৌমাই গুঁছিয়ে দিবে!
-যা ভালো মনে করিস! তুই আরামে থাকলেই আমার শান্তি!

মাস তিনেক পর...
-এখানে কি মাহিন চৌধুরি থাকে ?

বাড়ির দাড়োয়ান সেলিম উল্লাহ খবরের কাগজটা রেখে তাকালো লোকটার দিকে। হলদে হয়ে যাওয়া তিলে পরা সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পায়ে ক্ষয়ে যাওয়া রাবারের স্যান্ডেল আর হাতে একটা মলিন কাগজ!

-জ্বি না এই নামে তো কেউ নেই!
-ও এখানেও নেই!

-উনি আপনার কে হন?
-আমার ছেলে! একমাত্র ছেলে। জানেন আমেরিকা থেকে বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। অনেক পড়াশুনা করেছে, এখন ব্যবসা করে নিজের অফিসও আছে...অনেক ভালো ছেলে। সোনার টুকরা মাহি

-তো চাচা আপনি কি হারিয়ে গেছেন ?
-উঁ!

-এটাই কি আপনার ছেলের ঠিকানা ?
-হ্যা এটাই তো দিয়ে বলেছিলো এখানে ও থাকবে কিন্তু জানেন গত এক মাস ধরে প্রায় হাজারখানেক বাসায় নক করেছি খুঁজে পাই নি মাহিকে। ও বলেছিলো দুদিন পর আসবে কিন্তু আজও .....

.....জোড়াতালি দেওয়া চশমাটা খুলে আরিফ সাহেব চোখটা মুছে নিলেন। বুকের বাঁ পাশটা আজ কেমন খালি খালি লাগছে। অনেক হালকা। আকাশের দিকে তাকালেন আরিফ সাহেব, যাবার সময় বোধহয় হয়ে এলো...

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫

একজন চীনা বালকের গল্প

গল্পটা একজন চীনা বালকের।
চীনারা ইংরেজিতে ভীষণ কাঁচা। তো এই চীনা বালক আমেরিকার কোন এক মাল্টিন্যাশ্নাল কোম্পানিতে পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম ভাবে ফেইল করে। তার ইংরেজি দক্ষতা নিয়ে রীতিমত হাসাহাসি হয়। বেচারা মনে খুব দুঃখ পেলো সেইদিন। কিন্তু জেদও চেপে বসলো।

পরবর্তীকালে এই ছেলেটা হয়েছিল ইংরেজির শিক্ষক। শুধু চীনেই তার ছাত্র রয়েছে ১০ কোটির উপরে। ...

ডেল কার্নেগীকে বলা হয় সর্বকালের সেরা বক্তা!! তার কাহিনীটা জানা আছে কারো? শুনন তাহলে ...

জীবনে প্রথমবারের মতো ডেল কার্নেগী যখন মঞ্চে উঠে সবার সামনে ভাষণ দিতে শুরু করলেন তখন অডিয়েন্স তার দিকে ডিম ছুড়ে মেরেছিল। সেদিন ২ মিনিটের বেশি মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন নি।

ব্যাপারটা কার্নেগী মেনে নিতে পারেন নি। এরপর থেকে তিনি ভাষণ দেয়ার অনুশীলন শুরু করলেন। যেখানে সেখানে গিয়ে ভাষণ দিতেন। রাতের বেলা নির্জন ল্যাম্প পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতেন। ফাঁকা হল রুমে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা একা কথা বলে যেতেন। তার পরের গল্পে ডেল কার্নেগীকে আমরা সবাই চিনি৷

জর্জ বারনারড শ কে সর্বকালের সেরা নোবেল রাইটার বলা হয়। তিনি নিয়মিত ২০ পৃষ্ঠা করে লিখতেন। কোন দিন লিখা বাদ পড়লে পরের দিন পুষিয়ে নিতেন ৪০ পৃষ্ঠা লিখে রাখতেন। তার চেষ্টার ফলে তিনি সর্বকালের সেরা নোবেল রাইটার হতে পেরেছেন৷

একবার টমাস আলভা এডিসন কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বৈদ্যুতিক বাতি আবিস্কার করতে তিনি কি পরিমান চেষ্টা করেছিলেন।
এডিসন, বলেছিলেন, আমি প্রায় হাজার তিনেক বার চেষ্টার পর বাতির জন্য একটা উপযুক্ত ফিলামেন্ট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

এক বালকের খুব ইচ্ছা হয়েছিল সে বুয়েটে পড়বে। কিন্তু সে অংকেই কাঁচা। খুব কম বোঝে অংক। স্যার কে গিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা বলল। স্যার বললেন ,অংকে যারা ভালো না, তাদের জন্য বুয়েট না।

শুরু হয়ে গেলো ঝড়।

ছেলেটা সারাদিন অংক নিয়ে পড়ে থাকত। অংক প্রথমে বুঝার চেষ্টা করত। না বুঝলে, দেখে দেখে খাতায় লিখতে রাখত। ভুলেও মুখস্ত করে না। বার বার বুঝার চেষ্টা করত। এই চেষ্টা করতে করতেই ছেলে বুয়েটে চান্স পেয়ে যায় একদিন!!

...আমি দুঃখিত ... যারা বলেন এটা সম্ভব না ,ওটা সম্ভব না, তাদের সাথে একমত হতে পারি না। ...

অসম্ভব হচ্ছে সেটাই যেটাকে আপনি ""অসম্ভব "" করে রেখেছেন ...

দুর্বলতা ঈশ্বর প্রদত্ত !!
কিন্তু দুর্বলতাকে অতিক্রম করার ক্ষমতা প্রতিটা মানুষেরই আছে । পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের মাঝেই ঈশ্বর সফল হওয়ার জন্য ৭০০ কোটি আইটেম রেখে দিয়েছেন । শুধু খুঁজে বের করার অপেক্ষা !!

একটা গল্প দিয়ে শেষ করি ...

ছেলেটাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল এই জন্য যে ,তার স্মৃতি শক্তি অত্যধিক দুর্বল!! এই ছেলেকে দিয়ে জীববিজ্ঞানের মতো vital subject পড়া সম্ভব না। তাকে অন্য বিষয় পড়তে দেয়া হোক যেটা তার জন্য সোজা।
পরবর্তীকালে ইনিই হয়েছিলেন দ্বিপদ নামকরনের জনক!!
বিশ্ব তাকে চেনে বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস নামে!!

সোমবার, ১১ মে, ২০১৫

পুরুষের মন পেতে অনেক নারী যে ৭টি বাজে কৌশলের আশ্রয় নেন


প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ের ব্যাপার, সেক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সততার পরিচয় দেয়াটাই সবচাইতে উচিত কাজ। তবে দুঃখ জনক হলেও সত্য যে এই প্রেম-বিয়ের ক্ষেত্রেই বাজে কিছু কৌশলের আশ্রয় নেন অনেক মানুষ। হ্যাঁ, অনেক নারীও কাঙ্খিত পুরুষের মন পেতে এমন সব কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকেন যা আসলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই অনুচিত।

রূপের ফাঁদ:
পুরুষ নারীর রূপের মোহে পড়েন বলেই কিছু নারীরাও এই রূপের ফাঁদ ব্যবহার করে পুরুষের সাথে ছলনা করেন। রূপের মোহে পড়ে পুরুষ হয়তো নারীকে জীবনসঙ্গী করে নেন আর সম্পর্ক হয়ে যাবার পর আবিষ্কার করেন দুজনের মনমানসিকতায় বিস্তর ফারাক। তাই চেহারা নয়, মন আর গুণ থেকেই জীবনসঙ্গী নির্বাচন করুন।

যৌনতার ছলনা:
যৌনতার আহবান বেশিরভাগ পুরুষই এড়াতে পারে না আর এই ব্যাপারটা অনেক নারীই সুযোগ বুঝে ব্যবহার করেন। প্রেম বা বিয়ে করার জন্য শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যান। তবে সত্য এটাই যে শারীরিক সম্পর্ক থেকে যে প্রেমের শুরু তার পরিণাম কখনো ভালো হতে পারে না।

মিথ্যা রটনা:
পছন্দের পুরুষের সাথে নিজের নাম জড়িয়ে মিথ্যা রটনা অনেক নারীই নিজেই ছড়িয়ে থাকেন। আর এই মিথ্যা রটনা থেকে দুজনে কাছাকাছি হয়ে যান, অনেক সময় পুরুষ অপরাধবোধে ভুগেও সম্পর্ক করে ফেলেন।

নিজেকে কৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করা:
সব মানুষের মাঝেই ভালো-মন্দ দুটো দিক আছে। কারো চোখে ভালো সাজার জন্য নিজেকে কৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করা, মন্দ দিক লুকিয়ে নিজেকে আরেকজনের মনের মত করে উপস্থাপন করে মন পাওয়ার চেষ্টা খুবই সাধারণ একটা কৌশল নারীদের।

অসহায় হবার মিথ্যা নাটক:
পুরুষ মাতৃ নিজের পৌরুষ দেখানোর জন্য অসহায় নারীকে উদ্ধার করতে ভালোবাসেন। আর নিজেকে অসহায়, নির্যাতিত , নিপীড়িত সাজিয়ে রাখেন অনেক মেয়েই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে এমন কিছুই নয়। এমন নারীদের জন্যই সত্যিকারের নির্যাতিত নারীরা অবহেলার শিকার হন।

অন্য পুরুষদের জড়িয়ে নাটক:
অধিকাংশ নারীই নিজের পছন্দের পুরুষের কাছে বাড়িয়ে বলতে পছন্দ করেন যে কত পুরুষ তাঁকে পেতে চায় কিংবা তার প্রেমের পাগল। এই ব্যাপারটায় পুরুষেরা বিশ্বাস করেন আর ভাবেন যে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। ফলে জড়িয়ে পড়েন সম্পর্কে।

নানা রকম মিথ্যা আশ্বাস ও অভিনয়:
বিভিন্ন বিষয়ে নানান রকমের মিথ্যা প্রতিজ্ঞা, আশ্বাস দেয়াটা সম্পর্কের শুরুর আগে অনেক নারীই করে থাকেন। যেমন বিয়ের আগে বলে যে শ্বশুর-শাশুড়ি-দেবর-ননদের সাথে মিলেমিশে থাকতে চান। কিন্তু বিয়ের পর সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায় তার চাহিদা। বা বিয়ের আগে বলেন যে অর্থের লোভ তাঁর নেই। কিন্তু এক সময় এই অর্থই একমাত্র কামনা হয়ে দাঁড়ায়।